তেজপাতা, যা সাধারণত রান্নায় স্বাদ ও সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়, এর কিছু স্বাস্থ্যগত গুণাবলীও রয়েছে। তেজপাতার মধ্যে উপস্থিত নানা পুষ্টিকর উপাদান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তেজপাতার কিছু গুণাবলী হল:
তেজপাতা অনেক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এতে উপস্থিত পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যাসিড শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং মুক্ত র্যাডিক্যালসকে দূর করে।
তেজপাতা পেটের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তেজপাতা চা হিসেবে পান করলে এটি পেটের গ্যাস, ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
তেজপাতা রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তেজপাতার মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণাবলী রয়েছে যা শরীরকে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
তেজপাতা রক্তের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
তেজপাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস ত্বককে সুরক্ষিত রাখে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। তেজপাতা চুলের জন্যও উপকারী হতে পারে; এটি চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং স্ক্যাল্পে আরাম প্রদান করে।
তেজপাতা কাশি, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে থাকা এক্সপেক্টোর্যান্ট গুণ শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাগুলি নিরাময়ে সাহায্য করে।
তেজপাতা পেটের টক্সিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়ক।
তেজপাতা সাধারণত রান্নায় ব্যবহৃত হলেও, এর স্বাস্থ্যগুণের কারণে এটি নানা রকম চা বা ইনফিউশন তৈরি করেও খাওয়া যায়। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহার জরুরি।
No review given yet!